Saturday, February 11, 2017

উত্তরপ্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট শুরু আজ

বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে আজ শনিবার থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে। সাত ধাপের এ নির্বাচন চার সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। ২০ কোটি মানুষের এ রাজ্যে শহর, নগর ও গ্রামের প্রায় ১০ কোটি ভোটার পর্যায়ক্রমে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন। গত কয়েক মাস ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিটা দিক জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের দিক দিয়ে ভারতের অতীব গুরুত্বপূর্ণ এ রাজ্যে রয়েছে রাজনীতি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। এ ছাড়া মূর্তি স্থাপন ও গরু জবাই নিয়েও রয়েছে দ্বন্দ্ব ও সহিংসতা। বিভিন্ন দিক দিয়েই এ নির্বাচনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল নাটকীয়। অধিকাংশ নির্বাচন বিশ্লেষকের মতে, এই নির্বাচনী দৌড় এখনও ব্যাপক ও উন্মুক্ত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- উত্তরপ্রদেশের এ নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন আর কারাই বা এ নির্বাচনের বড় খেলোয়াড়? ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ। এ ছাড়া এ রাজ্যে রয়েছে সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন ও ব্যাপক রাজনৈতিক উত্থান-পতন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিপুল বিজয় সত্ত্বেও পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ লোকসভায় মোদির ভারতীয় জনতা (বিজেপি) পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে এ ব্যর্থতা মোদির জনপ্রিয়তার ওপর প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া ২০১৫ সালে বিহার ও দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবিকে মোদির মর্যাদা ও জনপ্রিয়তার ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হয়। উত্তরপ্রদেশের এ নির্বাচনে মোদির বিজেপি জয়ী হলে রাজ্যটিতে দলটির উপস্থিতি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং মোদির জনপ্রিয়তা আবারও ফিরে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সুমিত গাঙ্গুলী বলেন, এ নির্বাচনের বড় ধরনের তাৎপর্য রয়েছে। এ নির্বাচন অনেক দিক দিয়েই ভবিষ্যতের পথিকৃৎ। এ রাজ্যে মায়াবতী, যাকে সবাই এক নামে চেনে, একজন দলিত রাজনীতিক এবং লাখ লাখ নিন্মবর্ণের ভারতীয়র কাছে আইকন হিসেবে বিবেচিত। ইতিপূর্বে তিনি চার চারবার এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু ২০১২ সালের নির্বাচলে তার দল বহুজন সমাজবাদী পার্টি সমাজবাদী পার্টির কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে যায়। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও খারাপ পারফর্ম করে মায়াবতীর দল বহুজন সমাজবাদী পার্টি। গত বছরের জুলাইয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায়- গরু জবাই নজরদারি কমিটির সদস্যরা দলিত সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে নির্মমভাবে মারধর করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনা ব্যাপক প্রচার পায়। এতে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি বিরাজমান বৈষম্যমূলক ও সহিংস আচরণ ও মনোভাব ফুটে ওঠে। এ ঘটনা মায়াবতী ও তার দল বহুজন সমাজবাদী পার্টির জন্য কাজে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সিএনএন।

No comments:

Post a Comment