Thursday, February 2, 2017

আনন্দ-আড্ডায় যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

দিনভর আনন্দ-আড্ডার মধ্য দিয়ে বুধবার যুগান্তরের ১৮ বর্ষে পদার্পণ উদযাপিত হয়েছে। স্পর্ধায় দুর্বিনীত দুঃসাহসের বয়স আঠারোতে পা দেয়ার দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে এদিন যমুনা ফিউচার পার্কে জারা-নেহা কনভেনশন সেন্টারে সুধী সমাবেশসহ নানা আয়োজন করা হয়। দেশের অন্যতম শীর্ষ ও জনপ্রিয় দৈনিক যুগান্তরের শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি প্রাণবন্ত করে তোলে এ আয়োজন।
বিশিষ্ট নাগরিকদের উদ্দীপ্ত সমাগম পরিণত হয় নবীন-প্রবীণের মিলনমেলায়। তারা যুগান্তরের কাছে নতুন প্রেরণায় দেশ ও জাতির জন্য ১৮ বছর বয়সের মতোই সত্য জয়ের স্পৃহায় হার না মানা ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। মাঘের মিষ্টি মধ্যদুপুরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। এরপর সারা দিন চলে শুভেচ্ছা বিনিময়পর্ব। বিশেষ আকর্ষণ ছিল ভাষার মাসের গান ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আনন্দ আয়োজনে দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, বর্তমান মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, তারকা রাজনীতিবিদ, ঢাকার মেয়র, বর্তমান ও সাবেক সচিব, বিশিষ্ট ও প্রবীণ নাগরিক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, কলামিস্ট, যুব ও ছাত্রনেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অসংখ্য মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয় যুগান্তর পরিবার। কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, ক্রীড়াবিদ, চলচ্চিত্র ও নাট্য ব্যক্তিত্বের পদচারণায়ও মুখর ছিল অনুষ্ঠানস্থল। যুগান্তরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিক ও কূটনীতিকরা। শুভেচ্ছা জানাতে আরও এসেছিলেন সহযোগী জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, টিভি চ্যানেলের বার্তাপ্রধান, সাংবাদিক নেতা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। দীর্ঘদিন পর সাক্ষাৎ হওয়ায় অতিথিদের অনেকেই হারিয়ে যান সোনালি দিনে, মেতে ওঠেন আড্ডা-আলাপচারিতায়। আর এতে পুরো পরিবেশ আরও আনন্দঘন হয়ে ওঠে। আড্ডা-আলোচনায় দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ-পরিক্রমা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া- উঠে আসে সবই। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে কেক কাটা শুরু হয়। তা কাটেন যুগান্তরের স্বত্বাধিকারী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম,
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, যুগান্তর প্রকাশক সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ও যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম। কেক কাটায় আরও অংশ নেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু হোসেন বাবলা এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এমপি, শ্রীলংকার হাইকমিশনার ইয়াসুজা গুনাসেকের। কেক কাটায় এছাড়াও অংশ নেন- র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, এফবিসিসিআইর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর প্রমুখ। সঙ্গে ছিলেন যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, পরিচালক এসএম আবদুল ওয়াদুদ, মনিকা ইসলাম, রোজালিন ইসলাম, মেহনাজ তানিয়া ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও জাকির হোসেন। উপস্থিত ছিলেন- যুগান্তরের উপসম্পাদক আহমেদ দীপু ও এহসানুল হক,
প্রধান বার্তা সম্পাদক আবদুর রহমান, নগর সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর, চিফ রিপোর্টার আবদুল্লাহ আল মামুন, ইকোনমিক এডিটর হেলাল উদ্দিন ও ফিচার সম্পাদক রফিকুল হক দাদুভাইসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা। ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। শুভেচ্ছা জানাতে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, জেএসডির প্রধান ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রব, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (বর্তমানে অর্থসচিব) হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক, সমাজকল্যাণ সচিব জিল্লার রহমান প্রমুখ যুগান্তরকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পক্ষে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ যুগান্তরকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম শুভেচ্ছা জানান। শুভেচ্ছা জানান সুপ্রিমকোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. কামাল হোসেন শিকদার। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী সচিব-২ সাইফুজ্জামান শিখর, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পলিটব্যুরো সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। আরও শুভেচ্ছা জানান- মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএম এনামুল হক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল হক নাবিল। কেক কাটার পরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে তা। যুগান্তরের সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরাও দিনটি উদযাপন করেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য ছিল ঐতিহ্যবাহী মেজবান। এছাড়া মিষ্টিমুখ করানো হয়। সবার জন্য ছিল জন্মদিনে কাটা সুবিশাল কেক।

No comments:

Post a Comment