ঋতুরাজ
বসন্ত এসেছে বাংলার বুকে। চারিদিকে তাই উৎসবের আমেজ। পহেলা ফাল্গুনে
বসন্তকে বরণ করে নেয়ার আয়োজনটা শুরু হয় সোমবার সকালেই। ভোরবেলা শাহবাগ
চত্বরে আসতেই দেখা গেল ফুলের দোকানিরা ভীষণ ব্যস্ত। নানা বয়সী মানুষ বিশেষ
করে তরুণীরা ফুলের টায়রা কিনছেন মহাধুমধামে। অধিকাংশের পরনে হলুদ রঙের
শাড়ি।
ছেলেদের পরনেও একই রঙের পাঞ্জাবি অথবা ফতুয়া। শাহবাগ থেকে সকালবেলা
মানুষের ঢল নামে চারুকলার বসন্ত উৎসবে। নাচ, গানে সবাই মেতে ওঠেন বসন্তের
আবাহনে। সেখান থেকে টিএসসি আর তার আশপাশটা ঘুরে বিকালে সবার পথ গিয়ে মিশেছে
এক পথে। আর সেই পথের শেষটা হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এদিন মেলার দ্বার
খুলেছে বিকাল ৩টায়। মেলায় প্রবেশের কিছুক্ষণ পরই মনে হলো পুরো মেলাই
বসন্তের রঙে ছেয়ে গেছে। শুধু মেলাপ্রাঙ্গণ নয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বাংলা
একাডেমি, টিএসসি, শাহবাগ, চারুকলা, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ পুরো এলাকাই
উৎসবের রঙে ছেয়ে যায়। সোমবার কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধীজীবী, শিক্ষক, চিত্রকর,
লেখকসহ সব শ্রেণীপেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় বইমেলা। আবেগ, উদ্দীপনা
আর উচ্ছ্বাসের বাঁধভাঙা জোয়ারে মেলা ভেসে গেছে ক্ষণে ক্ষণে। ঘুরতে ঘুরতে
সবাই কিনেছেন বই। অনেকে আবার প্রিয়জনকে বই উপহার দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ছিল
সেলফি তোলার হিড়িক। মেলায় জনসে াত দেখে খুশি প্রকাশকরাও। তবে সে তুলনায়
বইয়ের বিক্রি কম। প্রকাশকদের মুখেও শোনা গেল সেই কথা। এদিকে মেলার ১৩তম
দিনে এসে বিভিন্ন চত্বরের নামকরণ করেছে বাংলা একাডেমি। মেলায় চোখ জুড়িয়ে
যাচ্ছিল বাসন্তী সাজের বাহারে। মেলাজুড়েই বসন্তের আবহ। এমনকি বিভিন্ন
স্টলের বিক্রয়কর্মীরাও পরেছেন হলুদ রঙের টি-শার্ট। রাত পর্যন্ত পুরো সময়ই
ছিল ভিড়। বাবা-মার সঙ্গে এসেছিল শিশুরাও। তাদের পরনেও বসন্তের পোশাক।
আর
কিশোর-কশোরী, তরুণ-তরুণীরা এসেছিল দলবেঁধে। মেলায় আজও (মঙ্গলবার) থাকবে
জনসে াত। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে মেলায় থাকবে তারুণ্যের জোয়ার।
ভালোবাসার রঙ লালে লালে আজ সাজবে মেলা। এদিকে সোমবার বরেণ্য ব্যক্তিদের
স্মরণ করে মেলার ১৩ চত্বরের নামকরণ করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চত্বর করা হয়েছে- সৈয়দ শামসুল হক, শহীদ কাদরী, রফিক
আজাদ, আবদুল গফুর হালী, শওকত ওসমান, সরদার জয়েনউদ্্দীন, মদনমোহন
তর্কালঙ্কর, আমীর হোসেন চৌধুরী, দীনেশচন্দ সেন, আহসান হাবীব, আবদুল্লাহ
আল-মুতী শরফুদ্দীন ও নূরজাহান বেগম। এ ছাড়াও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শহীদ
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নামে আরেকটি চত্বরের নামকরণ করা হয়েছে। পহেলা ফাল্গনের
মেলা নিয়ে অবসর প্রকাশনা সংস্থার স্বত্বাধিকারী আলমগীর রহমান যুগান্তরকে
বলেন, ‘বেচাকেনা যেমনই হোক, এখন মেলা পরিপূর্ণ। বিক্রির সঙ্গে একে মেলালে
হবে না, উৎসবের এই পরিপূর্ণ আনন্দকে উপভোগ করতে হবে। আমরা সেটাই করছি।’
এদিকে গবেষক অধ্যাপক ড. গোলাম মুরশিদের নতুন বই ‘আলোকিত মুখচ্ছবি’ প্রকাশ
করেছে অবসর প্রকাশনা সংস্থা। এ বইটি স্মৃতিকথাধর্মী, লেখকের সান্নিধ্যে আসা
দেশ-বিদেশের গুণীজনের প্রতি তার শ্রদ্ধাঞ্জলি। মোট ৩১ জন গুণীর সঙ্গে লেখক
তার স্মৃতি তুলে ধরেছেন বইটিতে। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। বইটির দাম
৫৭৫ টাকা।
নতুন বই : একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সোমবার মেলায় ৭১টি নতুন বই এসেছে। এ ছাড়াও ১৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে চারুলিপি থেকে প্রকাশিত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ‘রুখে দাঁড়াবার সময়’, চন্দ্রাবতী একাডেমি থেকে সেলিনা হোসেনের ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’, বাতিঘর থেকে মোহাম্মদ রফিকের ‘মানব পদাবলি’, কথাপ্রকাশ থেকে মুস্তাফিজ শফির উপন্যাস ‘ঈশ্বরের সন্তানেরা’, মিজান পাবলিশার্স থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘রচনাসমগ্র’, কালীকলম প্রকাশনা থেকে আহমদ ছফার ‘বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী’, মাওলা ব্রাদার্স থেকে সৈয়দ শামসুল হকের ‘অনুবাদ কবিতা সমগ্র’ ও ‘রক্তগোলাপ’, মুক্তধারা থেকে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘তাজউদ্দীন আহমদের রাজনৈতিক জীবন’, ইমপ্রেস অডিও ভিশন থেকে রাবেয়া রাহীমের কাব্যগ্রন্থ ‘দূরের মানুষ কাছের মানুষ’।
মেলামঞ্চের আয়োজন : সোমবার গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘মদনমোহন তর্কালঙ্কারের জন্মদ্বিশতবার্ষিকী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শফিউল আলম। আলোচনায় অংশ নেন ড. সফিউদ্দিন আহমদ ও ড. রতন সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল রাহিজা খানম ঝুনুর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টসের (বাফা) পরিবেশনা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুবীর নন্দী, জীনাত রেহানা, দীনাত জাহান মুন্নী, অনন্যা আচার্য্য ও সঞ্জয় কুমার দাস।
আজকের অনুষ্ঠান : আজ বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘পঞ্চাশ ও ষাট দশকের একুশের সংকলন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রাবন্ধিক-গবেষক ড. ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেবেন শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন ও সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত। সভাপতিত্ব করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী।
নতুন বই : একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সোমবার মেলায় ৭১টি নতুন বই এসেছে। এ ছাড়াও ১৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে চারুলিপি থেকে প্রকাশিত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ‘রুখে দাঁড়াবার সময়’, চন্দ্রাবতী একাডেমি থেকে সেলিনা হোসেনের ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’, বাতিঘর থেকে মোহাম্মদ রফিকের ‘মানব পদাবলি’, কথাপ্রকাশ থেকে মুস্তাফিজ শফির উপন্যাস ‘ঈশ্বরের সন্তানেরা’, মিজান পাবলিশার্স থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘রচনাসমগ্র’, কালীকলম প্রকাশনা থেকে আহমদ ছফার ‘বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী’, মাওলা ব্রাদার্স থেকে সৈয়দ শামসুল হকের ‘অনুবাদ কবিতা সমগ্র’ ও ‘রক্তগোলাপ’, মুক্তধারা থেকে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘তাজউদ্দীন আহমদের রাজনৈতিক জীবন’, ইমপ্রেস অডিও ভিশন থেকে রাবেয়া রাহীমের কাব্যগ্রন্থ ‘দূরের মানুষ কাছের মানুষ’।
মেলামঞ্চের আয়োজন : সোমবার গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘মদনমোহন তর্কালঙ্কারের জন্মদ্বিশতবার্ষিকী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শফিউল আলম। আলোচনায় অংশ নেন ড. সফিউদ্দিন আহমদ ও ড. রতন সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল রাহিজা খানম ঝুনুর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টসের (বাফা) পরিবেশনা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুবীর নন্দী, জীনাত রেহানা, দীনাত জাহান মুন্নী, অনন্যা আচার্য্য ও সঞ্জয় কুমার দাস।
আজকের অনুষ্ঠান : আজ বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘পঞ্চাশ ও ষাট দশকের একুশের সংকলন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রাবন্ধিক-গবেষক ড. ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেবেন শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন ও সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত। সভাপতিত্ব করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী।

No comments:
Post a Comment