Tuesday, February 14, 2017

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

সিলেট জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ফাঁদ মামলায় গ্রেফতারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টিমের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টা, আসামি ও ঘুষের অর্থ ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা তদন্তে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদের উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরীর স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে।
এ কমিটি ছাড়া তিনজন সদস্য হলেন পুলিশের ডিআইজি সিলেট রেঞ্জের একজন প্রতিনিধি, পরিবেশ অধিদফতর সিলেটের একজন প্রতিনিধি ও দুদকের সিলেট কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গঠিত এই কমিটির করণীয়ও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ করবে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিটি সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কাছে সুপারিশ দাখিল করবে। এরপর বিভাগীয় কমিশনার মতামতসহ ওই সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবেন। এদিকে দুদক টিমের ওপর হামলা ঘটনার ৫ দিন পর সোমবার সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নুল আবেদীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্যদিকে ঘুষের টাকাসহ আটক সিলেট ডিসি অফিসের কর্মচারী আজিজুল রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। আজিজুল রহমান চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির পর সেখান থেকে পালিয়ে যান। ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেটে দুদক পরিচালক শিরীন পারভীনের নেতৃত্বে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয় আজিজুল রহমানকে। এ ঘটনায় ওই দফতরেই ঘটে হামলার ঘটনা। ডিসি অফিসের কর্মচারীদের হামলায় মারাত্মক আহত হন দুদকের কনস্টেবল মিসবাহউদ্দিন। তার মাথা ফেটে যায়। অন্যদিকে ডিসি অফিসে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সিলেট অফিসের দুদক পরিচালক শিরীন পারভীন। দুদক টিমের ওপর হামলার ঘটনায় দুদক থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও কোনো মামলা করা হয়নি। তবে দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। কমিশন এ বিষয়ে ভেবেচিন্তে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানালেন দুদক সচিব।

No comments:

Post a Comment