শাওন-ফারুকী
বিতর্কের পর অবশেষে নিষিদ্ধ হল মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত নতুন ছবি
‘ডুব’। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ ছবিটির যাবতীয় কাজ শেষে
সেন্সরের আগে যৌথ প্রযোজনা প্রিভিউ কমিটিতে জমা দেয়া হয়। কমিটি ছবিটি দেখার
পর ২৩ ফেব্রুয়ারি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আগে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক
প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ পত্নী মেহের আফরোজ শাওন ছবিটির বিরুদ্ধে আশংকা প্রকাশ
করে অভিযোগ দায়ের করেন সেন্সর বোর্ডে। অভিযোগ আছে, এ ছবিতে হুমায়ূন
আহমেদের জীবনী বিনা অনুমতিতে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও ফারুকী বরাবরই এ অভিযোগ
অস্বীকার করে আসছেন। এদিকে ছবিটি নিষিদ্ধ হলেও দেশীয় মাধ্যমে খবর প্রকাশের
আগে ভারতের একটি ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে নিষিদ্ধের খবর প্রকাশ হয়। খবরটি
ফারুকী নিজেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দিয়েছেন বলে অনেকে বলছেন। আবার কেউ কেউ
বলছেন, ছবির সহপ্রযোজক বলিউডের অভিনেতা ইরফান খানও কাজটি করতে পারেন।
প্রযোজক হিসেবে তাকে যাবতীয় তথ্য জানানোর নিয়ম রয়েছে। সে হিসেবে পরিচালক
তাকে হয়তো নিষিদ্ধের খবর জানিয়েছেন।
আর তিনিই হয়তো ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ
পরিবেশন করেন। ওই ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে ‘সার্টিফিকেট’ বাতিল বলে প্রকাশ
করা হয়েছে। মূলত যৌথ প্রযোজনা কমিটি ছবি প্রিভিউ করার পর অনাপত্তিপত্র দিলে
সেটি সেন্সরের জন্য জমা দেয়া হয়। সেন্সরে জমা পড়ার আগেই কীভাবে
সার্টিফিকেট বাতিল হয়? বিদেশী সংবাদমাধ্যমে কেন ভুল সংবাদ প্রদান করা হল
সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। তা ছাড়া দেশীয় সংবাদমাধ্যমকে উপেক্ষা করে বিদেশী
সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ করার জন্য ফারুকীর কড়া সমালোচনা করেছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে মন্তব্য করেছেন, মূলত দেশপ্রেমের কথা
বলে ফারুকী দেশীয় মিডিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। কারণ দেশী মিডিয়ার
প্রতি তিনি আস্থা রাখতে চাইছেন না। এর আগে ডুব নিয়ে প্রথম বিতর্ক হয়েছিল
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার একটি খবরকে কেন্দ্র করে। ওই পত্রিকাটিই প্রথম
প্রকাশ করে ডুব হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নিয়ে তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কেউ কেউ
শাওনেরও সমালোচনা করে বলেছেন, ছবিটি মুক্তি দেয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতে
পারতেন। তাহলে হয়তো আসল সত্য বের হয়ে আসত। কেউ কেউ বিষয়টিকে ছবি হিট
করানোর জন্য পাবলিসিটি স্ট্যান্ট বলেও মন্তব্য করেছেন।

No comments:
Post a Comment