ভারতে
২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় ১০ ভাগ বাড়ানো হয়েছে।
সর্বমোট ২১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি রুপির বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ
জেটলি। প্রতিরক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার কোটি রুপি,
যা মোট বাজেটের ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বুধবার ভারতের পার্লামেন্টে ১ ঘণ্টা ৫০
মিনিটের বাজেট বক্তৃতায় প্রথমবারের মতো একসঙ্গে রেল ও সাধারণ বাজেট পেশ
করেন জেটলি। খবর এনডিটিভি ও হিন্দুস্থান টাইমসের। সকালে পার্লামেন্টে
প্রয়াত সংসদ সদস্য ই আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে
শুরু হয় বাজেট প্রস্তাব। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুসলিম লীগের এ নেতা
মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে
বুধবার বাজেট পেশ না করে সংসদ অধিবেশন মুলতবি করার দাবি তোলে কংগ্রেস।
বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই বাজেট পড়তে শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। ২০১৭-১৮
অর্থবছরের বাজেটে ধারাবাহিকভাবে প্রতিরক্ষা খাতে ১০ ভাগ ব্যয় বাড়িয়েছে
সরকার।
গত অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ১০.৫ শতাংশ বা ৭৮ হাজার ৫০০ কোটি রুপি
বাড়ানো হয়েছিল। এবারের বাজেটে বেড়েছে ৮৬ হাজার ৪০০ কোটি রুপি। অবসরপ্রাপ্ত
সেনাদের পেনশন এ বরাদ্দে ধরা নেই। ২০১৭-১৮ বছরের বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি
জিডিপির ৩.২ শতাংশে থাকবে বলে জানানো হয়। রাজস্ব ঘাটতি বেঁধে রাখা হবে ১.৯
শতাংশের মধ্যে। দ্বিগুণ বরাদ্দ বেড়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুদ্রা প্রকল্পে।
নতুন মেট্রো রেলওয়ে অ্যাক্ট আনা হবে বলে জানানো হয়। গ্রাম, গরিব,
পরিকাঠামো, কর্মসংস্থানে জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তরুণদের কর্মসংস্থান,
পরিকাঠামোর উন্নতি, ডিজিটাল ভারত, রাজস্ব ঘাটতি বাড়তে না দেয়া বাজেটের
অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানান অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির
বাজেট প্রস্তাবের ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার
সংসদে ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের জন্য বাজেটে একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করেন জেটলি।
বাজেট পেশের পরেই দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণে মোদি এবারের বাজেটকে ‘উত্তম
বাজেট’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, গরিব, চাষী এবং যুব সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য
অর্থমন্ত্রী একটি ‘উত্তম বাজেট’ পেশ করেছেন। পাশাপাশি দুর্নীতি এবং কালো
টাকা উদ্ধারেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। চাষীদের আয়
দ্বিগুণ করাই কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন মোদি। তবে বাজেটে কৃষক ও
তরুণদের জন্য কিছুই নেই বলে দাবি তুলেছেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী।
শ্রম আইন ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে কৃষি খাতে। ১০ লাখ
কোটি রুপি কৃষি ঋণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।
কৃষকদের
সুবিধার জন্য মাটি পরীক্ষা কেন্দ্র তৈরি করবে সরকার। ফসল বীমার পরিধি
বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৫ বছরে চাষীদের রোজগার দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে যথেষ্ট
পরিমাণে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে বলে বাজেটে জানানো হয়েছে। এছাড়া বাজেটে
যোগাযোগ খাতে ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি রুপি, অবকাঠামো খাতে ৩ লাখ ৯৬ হাজার রুপি
ব্যয় ধরা হয়েছে। এবারের বাজেটে করের বোঝা কমানো হয়েছে। বছরে আড়াই লাখ থেকে
৫ লাখ রুপি পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে আয়করের হার কমে হচ্ছে ৫ শতাংশ, যা আগে
ছিল ১০ শতাংশ। ফলে করের বোঝা কমবে অন্তত সাড়ে ১২ হাজার রুপি। তবে আয় ৫০ লাখ
থেকে এক কোটি রুপির ক্ষেত্রে আয়করের ওপরে সারচার্জ দিতে হবে আরও ১০ শতাংশ।
আর রোজগার কোটি ছাড়ালে ওই সারচার্জ হবে ১৫ শতাংশ। কর ফাঁকি দিয়ে কেউ
বিদেশে পালিয়ে গেলে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে। বাজেটে কালো টাকার
বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপ হিসেবে আগামী এপ্রিল মাস থেকে ৩ লাখ রুপির উপরে কেউ
নগদে লেনদেন করতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন জেটলি। সরকারের এ যুদ্ধে
যেভাবে মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অর্থমন্ত্রী। এ
সময় নোট বাতিলের ফলে অর্থনীতি ধাক্কাকে স্বল্পমেয়াদি বলে করেন মন্তব্য
অর্থমন্ত্রী। বাজেটে ২০১৮ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, শৌচাগার তৈরি বেড়েছে চোখে
পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী আবাসন প্রকল্পে বরাদ্দ ১৫ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ২৩
হাজার রুপি। ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি
রুপি।

No comments:
Post a Comment