যুগান্তর
আজ আঠারো বছরে পদার্পণ করছে। এজন্য যুগান্তর পরিবারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
একটি পত্রিকার দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে টিকে থাকা পত্রিকাটির সততা ও
স্বচ্ছতার প্রমাণ বহন করে নিঃসন্দেহে। আমি নিয়মিত যুগান্তরসহ দেশের প্রথম
সারির কয়েকটি পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করি। আমার কাছে যুগান্তরকে একটি
ব্যতিক্রমধর্মী পত্রিকা বলে মনে হয়। যুগান্তর মফস্বলের সংবাদকে অনেক বেশি
গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রান্তিক মানুষের সুখ-দুঃখের খবর যুগান্তর আন্তরিকতার
সঙ্গে পরিবেশন করতে সচেষ্ট থাকে। ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ শিরোনামে যুগান্তর
প্রতি সপ্তাহে একটি পাতা বরাদ্দ রাখে বৃহত্তর সিলেটের মাটি ও মানুষের
জন্য, যা অসাধারণ। এটি দেশের প্রথম শ্রেণীর অন্য কোনো পত্রিকায় দেখা যায়
না।
স্বজন সমাবেশের জন্য প্রতি বুধবার যুগান্তরে একটি পাতা বরাদ্দ থাকে। এ
পাতায় দেশের যুব সমাজের সামাজিক কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশ এবং যুব সমাজের
সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে।
যুগান্তর দেশীয় সংস্কৃতিকে বেশি প্রাধান্য দেয়। আমাদের দেশের তারকাদের
প্রাধান্য দেয় অনেক বেশি। এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। যুগান্তর সত্য প্রকাশে
কখনও পিছপা হয়নি। যুগান্তর দেশের শিল্প-সংস্কৃতির সমস্যা ও সম্ভাবনাকে
প্রচার ও প্রকাশ করে এ অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে শুরু থেকেই। এক সময়
আমাদের দেশে পত্রিকার অকালমৃত্যু ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। একটি দৈনিক পত্রিকা
১৭টি বছর অনেক সুনামের সঙ্গে টিকে থাকা সহজ ব্যাপার নয়। ১৭ বছর অত্যন্ত
সুনামের সঙ্গে পার করা শুধু যুগান্তরের কর্ণধার ও কর্মীদেরই কৃতিত্ব নয়,
পাঠকদেরও কৃতিত্ব বটে। পাঠকদেরও ধন্যবাদ জানাই। সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা ও
সম্পাদনার সঙ্গে পাঠকদের অকুণ্ঠ সমর্থন যুক্ত হয়ে যুগান্তরের যাত্রাকে
করেছে অপ্রতিরোধ্য। সবার সম্মিলিত ভূমিকার কারণেই যুগান্তরের এই
অগ্রযাত্রা। নারী নির্যাতনসহ যে কোনো নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুগান্তরের
ভূমিকা আপসহীন। সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে যুগান্তর
বরাবরই প্রাধান্য দিয়ে আসছে।
সেজন্যই যুগান্তর সাধারণ মানুষের হৃদয়ের
কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছে বলে মনে করি। আমাদের সমাজে মানুষ নিপীড়িত হয় প্রতি
মুহূর্তে। অনেক সময়ই মানুষ অন্যায়-অবিচারের প্রতিকার পায় না। সামাজিকভাবেও
দুর্বলের পাশে কেউ দাঁড়াতে চায় না বা দাঁড়ানোর ঝুঁকি নেয় না। এ পরিস্থিতিতে
দুর্বলের মধ্যে সাহসের সঞ্চার করতে পারে একটি প্রভাবশালী পত্রিকা। একটি
নিরপেক্ষ নির্মোহ পত্রিকা অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে ভূমিকা
রাখতে পারে। অসহায় ও দুর্বল মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি
পত্রিকা ভূমিকা রাখতে পারে। বিল মায়ার্সের একটি উক্তি এক্ষেত্রে বেশ
প্রণিধানযোগ্য : 'The all security of all is in free press'. যুগান্তরকে
ঝুঁকি নিয়েও দুর্বলের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে,
মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে যুগান্তরের ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সব
বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আলোকিত সমাজ ও দেশ গঠনে যুগান্তরের ভূমিকা আরও
আপসহীন হবে- একজন পাঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই আমার প্রত্যাশা।
সর্বস্তরের পাঠকদের ভালোবাসার কারণেই সফলতার মাপকাঠিতে যুগান্তর আরও অনেক
উচ্চতায় উঠবে- এই প্রত্যাশা থাকল।
মোহাম্মদ আবু তাহের : সভাপতি, ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও উপদেষ্টা, স্বজন সমাবেশ, মৌলভীবাজার জেলা কমিটি
মোহাম্মদ আবু তাহের : সভাপতি, ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও উপদেষ্টা, স্বজন সমাবেশ, মৌলভীবাজার জেলা কমিটি

No comments:
Post a Comment