নওগাঁর
রাণীনগর উপজেলার সর্বত্র গাছে গাছে শুধু আমের মুকুল আর মুকুল। মুকুলের
ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম প্রতিটি আমগাছ। সেই সুবাধে মৌমাছিরাও আসতে শুরু
করেছে মধু আহরণে। ছয় ঋতুর রাজা বসন্ত। ফাল্গুলের ছোঁয়ায় পলাশ- শিমুলের বনে
লেগেছে ফুলের মেলা। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের কুহুতানে মাতাল করতে আবার
ঋতুরাজ বসন্ত এসে গেছে। রঙিল ফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিত
সাজে, তেমনি নতুন সাজে সেজেছে এ উপজেলার আম বাগানগুলো। বাগান বালিক,
কৃষিবিদ ও আমচাষিরা আশা করছের বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং
আবহা অনুকুলে থাকলে এ উপজেলায় এবার আমের বাম্পার ফলন হবে। আমচাষী ও বাগান
মালিকেরা বাগান পরিচর্যা নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অবশ্য গাছে মুকুল
আসার আগে থেকেই গাছে পরিচর্যা করছেন তারা। যাতে গাছে মুকুল বা গুঁটি বাঁধার
সময় কোন সমস্যা সৃষ্টি না হয়।
এ উপজেলায় ফজলি,খিড়সা,
মোহনা,আমরুপালি,ল্যাংড়া,বউভোলনি,রাজভোগ ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের
জন্য বিখ্যাত। এক সময় চাষিরা বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমের
বাগান করলেও বর্তমান তারা নিজেরাই চারা উৎপাদন করছেন। এ ক্ষেতে সফলও
পেয়েছেন অনেকেই। এ উপজেলার উৎপাদিত আম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি এলাকায়
সরবরাহ করা হয়। এমনকি দেশের বাইরেও রফতানি করা হয়। সফল আমচাষী উপজেলার
কালীগ্রাম ইউনয়নের করজগ্রাম কাজীপাড়ার সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, এখনো সব গাছে
মুকুল আসেনি। কয়েক দিনের মধ্যেই সব গাছে মুকুল আসবে। প্রতি বছরই তিনি আম
গাছ থেকে অনেক টাকা আয় করে থাকেন। কাজী শাখাওয়াতের মতো কাজী আব্দুস সোবহান,
,লিটন চৌধুরী , হাফিজুর রহমান ও কালীগ্রামের ওহেদুল ইসলাম মিলনসহ অনেকেই
আমের বাগান করেছেন্ তারাও প্রতিবছর আম থেকে অনেক টাকা আয় করে থাকেন। এ
বিয়য়ে রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারোয়ার বলেন, এ বছর শীত
আগে আগে চলে যাওয়ায় অনেক গাছেই এ উপজেলায় আগেই আমের মুকুল চলে এসেছে। তবে
চলতি মাসের শেষের দিকে প্রতিটি গাছেই পুরোপুরি মুকুল ফুটতে শুরু করবে বলে
আশা করেন তিনি। এ এলাকায় বিরাজমান আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য বিশেষ
উপযোগী। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকলে আমের উৎপাদন গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি হবে
বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে আমচাষী ও বাগান মালিকদের এখন আম গাছে পরিচর্যা ও
গাছের গোড়ায় পানি দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment