দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী কাদেরী কিবরিয়া।
নন্দিত এ শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবনযাপন করছেন। দেশের
শ্রোতারা তার গান শুনতে চাইলে একমাত্র সম্বল হল সিডি বা ইউটিউব। দেশের
শ্রোতারা তার সঙ্গীতের সুধা পান করেননি দীর্ঘদিন। সেই না পাওয়াটাই এবার
পূর্ণ হল।
সঙ্গীত জীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রায় দু’যুগ পর ঢাকায় একক
সঙ্গীত সন্ধ্যায় গাইলেন কাদেরী কিবরিয়া। মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরের কবি
সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজক
সাংস্কৃতিক সংগঠন আমরা সূর্যমুখী। সঙ্গীত পরিবেশনের আগে দীর্ঘদিন পর ঢাকার
মঞ্চে গান গাইবার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাদেরী কিবরিয়া বলেন, ‘দেশের
মানুষ আমাকে এখনও ভালোবাসেন, আমার গানের তারা ভক্ত এটা ভাবতেই ভালো লাগে।’
একক সঙ্গীত সন্ধ্যার শুরুতেই কাদেরী কিবরিয়া ‘তোমার কাছে এ বর’
রবীন্দ্রসঙ্গীতে গানের সুরে মাতিয়ে তোলেন। এরপর পরিবেশেন করেন ‘মুখখানি করো
মলিনও’, ‘অকারণে অকালে মোর’সহ বেশ কিছু পুরনো দিনের গান। সঙ্গীত সন্ধ্যা
শুরুর আগে ছিল এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। উদ্বোধন করেন ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম।
মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খানের
সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সঙ্গীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, শাহীন সামাদ,
ফাতেমা-তুজ জোহরা প্রমুখ।
জাতীয় পথনাটক
উৎসব শুরু : ‘মূল্যবোধের অবক্ষয় রুখবো, মানবিক সমাজ গড়বো’ শীর্ষক স্লোগানে
শুরু হল জাতীয় পথনাট্যোৎসব। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ
মিনারে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। কেন্দ্রীয় শহীদ
মিনারে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ দিনব্যাপী চলবে এ আয়োজন।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সম্মিলিত
সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির
মহাপরিচালক ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকী। জাতীয়
সঙ্গীত পরিবেশনা ও শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শুরু হয় এ উৎসব।
রফিকুন নবী বলেন, আজকের দিনে এসেও আমাদের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে কথা বলতে
হচ্ছে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে আজ। সেখান থেকে আজ আমাদের উত্তরণ করতে
হবে। সে যুদ্ধে লড়বে পথনাটক। তবে একে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতে হবে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া পথনাটক আন্দোলনের
ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এর শিল্পমান বিচারে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার
আহ্বান জানান রামেন্দু মজুমদার। গোলাম কুদ্দুছ বলেন, নানা সংকটে পথনাটক
উৎসব আমাদের সাহসী করে তুলেছে। উৎসবের উদ্বোধনী দিনে পরিবেশিত হয়
দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্যধারার পথনাটক ‘জলে ভাসা পদ্ম’। আজ এ
মঞ্চে প্রদর্শিত হবে থিয়েটার আরামবাগের ‘ফলাফল নিন্মচাপ’, খেয়ালী
নাট্যগোষ্ঠীর ‘রক্তাক্ত ফাগুন’, তীর্থকের ‘নজর বন্দি’, মুক্তালয় নাট্যাঙ্গন
‘ঘুম’, নাট্যযোদ্ধার ‘বুদ্ধি’। আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন বিকাল ৪টায় শুরু
হবে পথনাটক প্রদর্শনী। এবার ঢাকা ও ঢাকার বাইরের প্রায় ৪০টি নাট্য সংগঠন
উৎসবের মঞ্চে পারফর্ম করবে।

No comments:
Post a Comment