Wednesday, February 15, 2017

নগরকান্দা-সালথায় মামা বাহিনীর ত্রাস : প্রতিবাদে মানববন্ধন

নগরকান্দা-সালথা উপজেলায় আলোচিত মামা বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন ও আধিপত্য বিস্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আজ বুধবার সকালে শহরের মুজিব সড়কে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিগণ অংশ নেন। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্যকালে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল বলেন, সংসদ উপনেতার এক পুত্রের জন্য ইতিপূর্বে ক্ষমা চেতে হয়েছিল। এখন আরেক পুত্র তার নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাস-নির্যাতন চালাচ্ছে। তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, যদি এই মামা বাহিনীর নির্যাতন-অত্যাচার বন্ধ না হয় তবে তাকে প্যাকেট করে দাদার বাড়ি চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হবে। মানবন্ধনে অংশ নিয়ে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভি, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আক্কাস হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা আহ্বায়ক শওকত আলী জাহিদ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. খবিরুল ইসলাম, ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি জুবায়ের জাকির ও সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক গোলাম নাসিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এছাড়া শহর যুবলীগ, স্বেচ্চাসেবক লীগ, বিএমএ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, বৃহত্তম ফরিদপুর সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ, চাঁদের হাট, প্রথম আলো বন্ধু সভা, চরভদ্রাসন প্রেসক্লাব, সদরপুর প্রেসক্লাব, বাঙালী খবর পরিবার, ফরিদপুর জেলা পরিবহন ইউনিয়ন, ফরিদপুর বাস মালিক গ্রুপ, ফরিদপুর রেন্ট এ কার শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা, ফরিদপুর জেলা কার ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি, এপডিএ, এফডিসি, এসডিসিসহ বিভিন্ন সংগঠন ব্যানার নিয়ে মানবন্ধনে অংশ নেয়। এছাড়া ফেষ্টুনসহ অসংখ্য মানুষ মিছিল নিয়ে এসে এ মানববন্ধনে যোগ দেয়। মানববন্ধনে বক্তাগণ সম্প্রতি মামা বাহিনীর হামলায় ফরিদপুরের স্থানীয় এক পত্রিকার সম্পাদক সেলিম মোল্যার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও ভাইবোনকে কুপিয়ে জখম করার নিন্দা জানান। মামা বাহিনীর অত্যাচার নিযৃাতনে নারী ও শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না অভিযোগ কওে তারা বলেন, গত ৮ বছর যাবত সালথা ও নগরকান্দা এলাকায় তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ মানুষ তাদের হাতে জিম্মি।
কেউ মুখ খুললে তার উপর হামলা-মামলা নেমে আসে। মানবন্ধনে অংশ নিতে আসার সালথার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, গত এক বছরে হানাহানিতে শুধুমাত্র সালথা উপজেলাতে ১৯ জনকে জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম মোল্যা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুসাইন বুলবুল ও সহ-সভাপতি আবু নাসের হুসাইনের উপর হামলা হয়েছে। অতিসম্প্রতি সালথা প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ফারুকুজ্জামান ফকির মিয়া। হত্যাকান্ড ও হামলা-মামলা-হুমকি ছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। পঙ্গু হয়ে এখনো বিছানায় পড়ে আছেন অনেকে। অসংখ্য বাড়িঘওে ভাংচুর-লুটপাট করা হয়েছে। প্রতিপক্ষদের নিরীহ নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বাড়িঘরগুলো টার্গেট করা হচ্ছে। এখানে সরকারী চাকরী করতে এসে ভয়ে অনেকেই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধনেই মুলত বেশির ভাগ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে, স্মারকলিপিতে সালথার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেফতার করে অবিলম্বে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, সেলিম মোল্যার বাড়িতে হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও ক্ষতিপুরণ, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও অসাধু জনপ্রতিনিধি ও কথিত সমাজপতিদের অবৈধ আধিপত্যরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

No comments:

Post a Comment