বাংলাদেশের
সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মরহুম মোনেম মুন্নার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী
আজ। ২০০৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান
মুন্না। ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন
তিনি। হাসপাতাল থেকে আর বাড়ি ফেরা হয়নি এই কিংবদন্তি ফুটবলারের। তার
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মোনেম মুন্না স্মৃতি সংসদ
শোকর্যালি ও কবর জিয়ারত এবং বাদ এশা মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
একই দিনে নারায়ণগঞ্জ সোনালী অতীত ক্লাব মুন্নার আত্মার শান্তির জন্য বাদ
আসর দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও কাঙালি ভোজেরও আয়োজন করেছে। ১৯৮১ সালে পাইওনিয়ার
লীগ দিয়ে ফুটবলে অভিষেক মোনেম মুন্নার।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে পেশাদার
ফুটবলে উত্থান। প্রথম দুই মৌসুম মুক্তিযোদ্ধায়, এরপর এক মৌসুম ব্রাদার্স
ইউনিয়নে খেলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি যোগ দেন ঢাকা আবাহনীতে। সেখানেই গড়ে তোলেন
নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আবাহনীর সঙ্গেই জড়িয়ে ছিলেন।
১৯৯১ মৌসুমের দলবদলে মুন্না আবাহনীতে খেলেছিলেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা
পারিশ্রমিকে। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে
জড়িয়েছিলেন। এরপর দু’একটি ম্যাচ বাদ দিলে টানা ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে
খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। ১৯৯০ সালে বেইজিং এশিয়ান গেমসে কিং ব্যাক মোনেম
মুন্না প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছিলেন। তার
নেতৃত্বেই ১৯৯৫ সালে মিয়ানমার থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রুফি জিতে ঘরে ফেরে
লাল-সবুজরা। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে যা প্রথম সাফল্য। ১৯৯৯ সালের রমজান
মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান। সেখানেই তার কিডনি
সমস্যা ধরা পড়ে। ২০০০ সালের মার্চে বাঙ্গালোরে বোন শামসুন নাহার আইভীর
কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়।

No comments:
Post a Comment