ঢাকার
ধামরাইয়ের দক্ষিণ ডাউটয়া কাইটামারা এলাকায় চোর সন্দেহে গণপিটুনি এক যুবক
নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর সোমভাগ ইউপি সদস্য মো. আতাহার আলী ওরফে আতক আলী
নিহত ওই যুবকের লাশ স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফেলে গাঢাকা
দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে সরকারি বিদ্যালয় মাঠ থেকে ওই
যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের ছুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে
ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ
ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে।
এলাকাবাসী জানান, রাত ৮টার দিকে উপজেলায় দক্ষিণ ডাউটিয়া কাইটামারা সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মুদি দোকানদার মো. জনুমিয়া ও তার ছেলে সাইদুর
রহমান চোর সন্দেহে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে আটক করে। এরপর তাকে বেঁধে রেখে
বেধরক মারধর করে এবং জানায় অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি তাদের দোকান ঘরের জানালার
গ্রিল ভেঙ্গে চুরির চেষ্টা করে। এ খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এলে
পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে দোকানদার আটক ওই যুবককে সাথানীয় ইউপি
মেম্বার মো. আতাহার আলী ওরফে আতক আলীর বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ওই
বাড়িতে বেঁধে রেখে ফের দফায় দফায় গণপিটুনি দেয়।
একপর্যায়ে আটক ওই যুবকের
মৃত্যু ঘটে। পরে মেম্বারের বাড়ি থেকে ওই যুবকের মরদেহটি স্থানীয় সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে ফেলে রেখে যায়। ধামরাই থানা পুলিশকে খবর দিলে
এসআই বাবুল শরীফ ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মরদেহের
ছুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডেকেল কলেজ হাসপাতালের
মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যপারে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে অজ্ঞাত
আসামিদের বিরুদ্ধে। এ খবরে এলাকাবাসী গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় গ্রামটি
পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। ওই মোদি দোকানদার ও ইউপি সদস্যকে
খুঁজে না পাওয়ায় এ ব্যাপারে তাদের মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে
ধামরাই থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ রিজাউল হক দীপু যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত
সাপেক্ষে যথযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন হাতে তুলে নেয়া মোটেও উচিৎ নয়।
তবে এক্ষেত্রে এলাকাবাসী অতি উৎসাহিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। চোর
সন্দেহে আটকের পর ওই যুবককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা উচিৎ ছিল বলে জানান
ওসি।

No comments:
Post a Comment