আবারও
নারী ফুটবলাররা অবহেলার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে)
কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতিতে নিজেদের দায়িত্বেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে নারী
ফুটবলারদের। অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের ক্যাম্প থেকে খেলোয়াড়দের ছুটি দেয়া হয়।
কিন্তু বাড়ি পাঠানোর সময় মেয়েদের সঙ্গে বাফুফের কর্মকর্তারা তো দূরে থাক
কাউকেই পাঠানো হয়নি। অথচ সিঙ্গাপুরে দল যাওয়ার সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে শশী
নামে বাফুফের এক কর্মচারীকে পাঠানো হয়েছিল। রোববার সকালে সিঙ্গাপুর থেকে
দেশে ফিরলেও খেলোয়াড়দের রাতে থাকার কোনো ব্যবস্থা করেনি বাফুফে। কোনো রকমে
রাত পার করে সোমবার সকালে গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয় কলসিন্দুরের তিন নারী
ফুটবলার নাজমা, শামছুন নাহার ও মার্জিয়াকে। ঢাকা-ময়মনসিংহের ট্রেনযাত্রায়
এবারও সঙ্গী ছিলেন না বাফুফের কেউ। ময়মনসিংহ স্টেশনেও কলসিন্দুর যাওয়ার
জন্য ছিল না কোনো নির্দিষ্ট পরিবহন। ময়মনসিংহ থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার
দূরত্ব পাড়ি দিয়ে কলসিন্দুরে নিজেদের বাড়িতে পৌঁছান এই ফুটবলাররা। এ
প্রসঙ্গে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ পুরনো বুলিই আওড়ালেন। তার
কথা, ‘ভুল হয়ে গেছে,
ভবিষ্যতে আর হবে না।’ এবারও দায়িত্ব এড়িয়ে গেলেন
সোহাগ। বাংলাদেশের ফুটবল সাফল্য এখন মহিলা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
পুরুষ দলের ব্যর্থতায় যখন দেশের ফুটবলে দর্শকহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, তখন মহিলা
দলের একের পর এক সাফল্য কিছুটা হলেও সেই ব্যর্থতা ঢেকে দিতে সহায়ক ভূমিকা
পালন করছে। এএফসি আঞ্চলিক বাছাইয়ে অনূর্ধ্ব-১৪ দল নেপালকে হারিয়ে এই
অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দল এএফসি এশিয়ান কাপে
দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছিল। সাফে রানার্সআপ হওয়া দলের অধিকাংশই
অনূর্ধ্ব-১৬ দলের এবং কলসিন্দুরের খেলোয়াড়রা। কিন্তু যাদের কল্যাণে এতসব
অর্জন- বিদেশ থেকে ফেরার পর সেই দলের কলসিন্দুরের মেয়েদেরকেই বাসে করে বাড়ি
পাঠিয়েছিলেন বাফুফের কর্মকর্তারা। এনিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। অনেকটা নাকে খত
দিয়েই সে সময় পার পেয়েছিলেন বাফুফের কর্তারা। কিন্তু সেই ঘটনার রেশ কাটতে
না কাটতেই ঘরে ফেরা ফুটবল কন্যাদের ফের ভোগান্তিতে পড়তে হল। এবার মেয়েদের
বাড়ি পাঠানো হলো ট্রেনে করে। পরে অটোরিকশাতে চাপতে হয়েছে নিজেদের দায়িত্বে।
যা চরম অন্যায় বলেই মনে করেন ফুটবলবোদ্ধারা।

No comments:
Post a Comment