Thursday, March 2, 2017

ভাগ্যাহত মায়ের একের পর এক সন্তান চুরি

সেতু বেগম। ভাগ্যাহত এক নারী। মাদকাসক্ত স্বামীর সংসারে এতটুকু সুখ তার কপালে জোটেনি। এর মধ্যেই তার কোলজুড়ে যে সন্তান এসেছে তা চুরি হয়ে গেছে। স্বামী তার সন্তানকে চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে। অথবা অন্য কোনো কারণে চুরি হয়েছে। সর্বশেষ ১৯ ফেব্রুয়ারি তার আট মাসের চতুর্থ সন্তানটি চুরি হয়। ১০ দিন পর মঙ্গলবার রাতে মরিয়ম নামের ওই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আগে চুরি হওয়া তিন সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড়টির সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় সন্তানের সন্ধান পাওয়া গেলেও তাকে ফিরে পাওয়া যায়নি। এক দম্পতি কিনে নিয়ে লালন-পালন করছে ওই সন্তানকে। আর তৃতীয় সন্তান চুরি হওয়ার পর পাওয়া যায় লাশ। সর্বশেষ রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী এলাকা থেকে ৮ মাসের শিশু মরিয়ম চুরি হয়। শিশুটিকে বিক্রি করে দেয়া হয়। ঘটনার ১০ দিন পর মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু মরিয়মকে। গ্রেফতার করা হয় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে। গ্রেফতারকৃতরা হল- মিনারা ওরফে তানিয়া (৪০), মাসুম (৩০) ও তার স্ত্রী মৌসুমী (২১)। বুধবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর সদর দফতরে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান এ ব্যাপারে ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকার বাসিন্দা সেতু বেগম ২২ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব-১১ এর কাছে অভিযোগে করেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি তার ৮ মাসের শিশু মরিয়ম নিখোঁজ হয়েছে। তার স্বামী বিল্লাল হোসেন (৩৬) একজন মাদকাসক্ত। মরিয়ম ছাড়াও এর আগে তার তিনটি সন্তান নিখোঁজ হয়েছে। প্রথম সন্তানটি ৫ বছর বয়সে নিখোঁজ হয়। দ্বিতীয় সন্তান সৌরভ নিখোঁজ হয় ৫ মাস বয়সে। এক পর্যায়ে সেতু বেগম জানতে পারেন, শিশু সৌরভকে তার স্বামী বিল্লালের মাধ্যমে রোকন নামের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া চুরি করে নিয়ে যায়। বর্তমানে সে রোকন দম্পতির সঙ্গে কুষ্টিয়ায় আছে। এরপর সেতুর ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে শারমিন। সেতুর শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধের জেরে সুলতানা নামের এক নারী মাত্র ১১ মাস বয়সের শিশু শারমিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে শাহবাগ থানা এলাকায় একটি ডাস্টবিনে ফেলে রাখে।
এরপর শাহবাগ থানা পুলিশ সুলতানাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। চতুর্থ সন্তান মরিয়ম জন্ম নেয়ার পর সেতুর সঙ্গে স্বামীর ডিভোর্স হয়ে যায়। মরিয়ম নিখোঁজ হলে সেতু বেগম শাহআলী থানায় জিডি করেন এবং পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করতে না পারায় তিনি র‌্যাব-১১ এর কাছে ২০ ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ দিয়ে আইনি সহায়তা চান। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার রাত পৌঁনে ১২টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দরে অভিযান চালিয়ে শিশু মরিয়মকে উদ্ধার ও তিনজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, তারা শিশু মরিয়মকে চুরি ও বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মরিয়ম মিরপুরে যে বাসায় থাকে তার পাশেই বসবাসকারী আল আমিন (২৮) ও সালমা (২২) দম্পতি ১৯ ফেব্রুয়ারি মরিয়মকে নিজ ঘর থেকে চুরি করে। আল আমিন তার বোন মিনারা ওরফে তানিয়ার মাধ্যমে মরিয়মকে নিঃসন্তান মাসুম ও তার স্ত্রী মৌসুমীর কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি মো. আলেপ উদ্দিন জানান, শিশু মরিয়মকে চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

No comments:

Post a Comment