বেশিরভাগ
আমেরিকান মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময়
যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেগুলো রক্ষা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম
পলিটিকো ও বেসরকারি জরিপ সংস্থা মর্নিং কনসাল্টের যৌথ এক জরিপে এ তথ্য উঠে
এসেছে। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পলিটিকো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন মনে করছেন,
তারা দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, দেশে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা ও সাধ্যের মধ্যে
স্বাস্থ্যসেবা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছেন। ভোটাররাও ট্রাম্পের দাবির
সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। জরিপে অংশ নেয়া ২ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের ৬৬ শতাংশ
ভোটার বলছেন, ট্রাম্পের কাছে যেমনটি প্রত্যাশিত ছিল তিনি তেমনটিই করছেন।
তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন। ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
পরিচালিত এ জরিপে অংশ নেয়া আর সার্বিকভাবে জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের অর্ধেকই
ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর সমর্থন জানাচ্ছেন; আর
এসব সিদ্ধান্তে আপত্তি জানাচ্ছেন ৪৫ শতাংশ ভোটার। মর্নিং কনসাল্টের
সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা কাইল ড্রপ বলেন, ‘ট্রাম্পের
এজেন্ডা নিয়ে আমেরিকানরা বিভক্ত হলেও তাদের বেশিরভাগই বলছেন যে,
ট্রাম্প
তার নিজের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের সমর্থকরা তো বটেই, তার অনেক
সমালোচকও স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ
করতে শুরু করেছেন। জরিপে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে কংগ্রেসের
ডেমোক্রেটদের প্রতি আস্থা রাখছেন জরিপে অংশ নেয়া ৪২ শতাংশ ভোটার। এ খাতে
রিপাবলিকানদের ওপর আস্থাশীলের সংখ্যা ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে অর্থনীতি,
কর্মসংস্থান ও অভিবাসন প্রসঙ্গে বেশিরভাগই আস্থা রাখতে চান রিপাবলিকানদের
ওপরই। এর মধ্যে অভিবাসন প্রসঙ্গে সমান দুই ভাগে বিভক্ত আমেরিকানরা। তাদের
৪৩ শতাংশ মনে করেন যে, অভিবাসীরা নিজেদের কঠোর পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে তুলছেন। আবার ঠিক ৪৩ শতাংশই বলছেন, অভিবাসীরা
তাদের ওপর বোঝা। আবার ৪৬ শতাংশ ভোটার বলছেন, নথিভুক্ত নয় এমন অভিবাসীদের
আমেরিকায় থাকতে দেয়া উচিত এবং তাদের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের সুযোগও দেয়া
উচিত। এ ক্ষেত্রে ৩৮ শতাংশ মনে করছেন যে, তাদের আমেরিকা থেকে বের করে দেয়া
উচিত। বাকি ৭ শতাংশের মত, এসব অভিবাসীদের থাকার অনুমতি দিলেও নাগরিকত্ব
লাভের সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না।

No comments:
Post a Comment