Saturday, March 4, 2017

সমানীনগরের প্রথম নির্বাচনে ত্রিমুখি লড়াই

রাত পোহালেই সকাল থেকে শরু হবে ভোট গ্রহন। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীরা ও দলীয় নেতা কর্মীরা চেয়ে আছেন ভোটারদের দিকে। শনিবার মধ্য রাতে বন্ধ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনা। উপজেলার ৮ ইউনিয়নের হাট বাজার থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রার্থীরা তাদের সমর্থক নিয়ে চষে বেড়ানো শেষ। এখন ভোট ঘরে তুলার পালা। ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের স্থানীয় গ্রুপিং সংঘাত সংঘর্ষ ভোটারদের মধ্যে একরকম আতংক বিরাজ করছে। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকায় আ’লীগ প্রার্থী বেকায়দায় রয়েছেন। তাছাড়া সরকারের প্রধান রাজনৈতিক বিরুধী দল বিএনপিতেও দলীয় গ্রুপিং রয়েছে। প্রকাশ্য মাঠে এ গ্রুপিং না দেখা গেলেও বিএনপির ভিতরের একটি শক্তিশালী বলয় রয়েছে যারা নিরবে, কৌশলে কাজ করছে দলীয় মনোনীত প্রাথীর বিরুদ্ধে। নির্বাচনী মাঠে আ’লীগ প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নিয়ে, বিদ্রোহী প্রার্থী স্থানীয় আ’লীগের একটি শক্তিশালী গ্রুপ নিয়ে,বিএনপি প্রার্থী নিরবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঠে প্রচারণায় এগিয়ে জগলু চৌধুরী, নিরব ভোটে ময়নুল হক চৌধুরী রয়েছেন তবে ৫ বারের ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে আতাউর রহমানকে উড়িয়ে দেবার নয়।। সব শেষে আ’লীগ বিএনপি ভোট ভাগাভাগি আর দলীয় ও ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগিয়ে সংঘাত সংঘর্ষ এরিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায় করে কে হবেন নব গঠিত ওসমানীনগর উপজেলা প্রথম চেয়ারম্যান তা বলা মুশকিল। তবে ভোটের মাঠে যে লড়াই হবে ত্রিমুখি এটি পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে। আ’লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে দলের বর্তমান সভাপতি মো: আতাউর রহমানকে। তিনি তাজপুর ইউনিয়নের ৫বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন । গোটা উপজেলায় রয়েছে তার ব্যাক্তিগত ইমেজ। আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জগলু চৌধুরী ছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।
তিনি একবার অবিভক্ত বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে হারেন। ঐ নির্বাচনে হারলেও বর্তমানে তার সাথে রয়েছে আ’লীগের একটি শক্তিশালী গ্রুপ। বিএনপি তার দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরীকে। নিরবে তার বিরুদ্ধে কাজ করছে বিএনপির একটি শক্তিশালী গ্রুপ। তবে বিএনপির নিখোজ নেতা এম ইলিয়াছ আলীর ইমেজ এবং জামায়াত ও হেফাযতের নিরব ভোট রয়েছে তার পক্ষে। ওসমানীগর উপজেলা আ’লীগ দু’টি গ্রুপে বিভক্ত রয়েছে। একটি গ্রুপ রয়েছে সিলেট জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে । অন্য গ্রুপটি যুক্তরাজ্য আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে মাঠে কাজ করছে। উপজেলা আ’লীগের গেল কাউন্সিলে শফিক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে আতাউর রহমান সভাপতি ও নাজলু চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কাউন্সিলে হেরে যান আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী সভাপতি পদে মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন আহমদ ও সাধারন সম্পাদক পদে আব্দাল মিয়া। কাউন্সিলের পর উভয় গ্রুপ একে অপরের বিরুদ্ধে আরোও শক্তিশালী অবস্থান নেয়। ইতোমধ্যে মাঠে দুই গ্রুপই একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনে পিছিয়ে নেই। ফল স্বরুপ গেল ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ১টি ইউনিয়নে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয় আ’লীগ। বাকি ৭টির ৩টিতে বিএনপি, ১টিতে বিএনপি বিদ্রোহী, এবং ৩টিতে আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বচিত হন। বর্তমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন পান উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মো: আতাউর রহমান। তিনি জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিক চৌধুরীর গ্রুপে রয়েছেন। অন্যদিকে এক সময়ের শফিক চৌধুরী অনুসারী সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আ’লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ( বহিস্কৃত) আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। জগলু চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে কাছে টেনে নিয়েছে আনোয়ার চৌধুরীর গ্রুপ। তাই এলাকায় দলীয় গ্রুপিং সংঘাত সংঘর্ষ থেমে নেই। গত শনিবার ও রবিবার উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের কালনীরচ গ্রামে নির্বাচনী ইস্যুকে কেন্দ্র করে পরবর্তিতে এলাকাকেন্দ্রীক সংঘষে এ পর্যন্ত ২জন প্রান হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরো অন্তত দেড়শ জন। এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আনোয়ার চৌধুরীর অনুসারী উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি সাদীপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন আহমদকে এক নম্বর আসামি দিয়ে হত্যা মামলা দেয়া হয়। হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর ঐদিন রাতে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার সমর্থকেরা একযোগে সিলেট ঢাকা মহাসড়কের ৪টি স্থানে অবরোধ করলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছিল বলে ছেড়ে দেয়। নির্বাচনী সংঘাত সংঘর্ষে মাঠ উত্তপ্ত হলে ওসমানীনগরে এসে কঠিন হুশিয়ারী করে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মো: আতাউর রহমান তাজপুর ইউনিনে ৫ বারের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের চেয়ারম্যন থাকায় এলাকায় আ’লীগ দলীয় ভোটার ছাড়াও তার নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। আলীগের দলীয় ভোট, সংখ্যালঘু ভোট, নিজস্ব ইমেজের ভোটকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পার হতে চাচ্ছে তার অনুসারীরা। তার অনুসারীদের বক্তব্য হচ্ছে, ৯১ সালে তাজপুর ইউপি নির্বাচনে সমগ্র উপজেলার তৎক্ষালিন নেতৃবৃন্দ আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রাথী দিয়েছিলেন। তখনও আতাউর রহমান সম্পূর্ণ একাকি তার ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগিয়ে নিরব ভোটে বিজয়ী হন। এবারও এরকম কিছু হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আর গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আ’লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার এমন কিছু সমর্থক রয়েছে যা কোন প্রার্থীই নিতে পারবেনা। আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আক্তারুজ্জামান চৌধুরী জগলু সিলেট জেলা আ’লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিও ছিলেন।
তিনি এবারের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইলে দল তাকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার মনোনয়ন প্রদান করে। তিনি দলের এ মনোনয়ন গ্রহণ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে দল তাকে আ’লীগ থেকে বহিঃস্কারও করেছে। ২০১৯ সালে তিনি বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে অখ্যাত এক প্রতিদ্বন্ধীর কাছে হারেন। বর্তমানে আ’লীগের একটি শক্তিশালী অংশ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগ থেকে একটি বিশাল গ্রুপ তার সাথে রয়েছে। রাত দিন তার এ সমর্থকরা গ্রামে গ্রামে জগলু চৌধুরীর পক্ষে ভোট চাইছেন। তার সমর্থকদের বক্তব্য হচ্ছে, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে তার ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ এবং মাঠের সাধারণ ভোটারদের যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে তা কাজে লাগিয়ে তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করবেন। বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিলেট জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরীকে। সিলেট কেমিস্ট এন্ড ডাগিস্টের সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরীকে বিএনপি’র স্থানীয় একটি গ্রুপ মেনে নিতে নিতে পারছেনা। নির্বাচনী কাজ শুরুর পূর্বে এ গ্রুপটি অনেকটা প্রকাশ্য তার বিরুধীতা করলেও ইলিয়াছ পতœী তাহসিনা রুশদী লুন তাদের নিয়ে বসে নির্বাচনে একসাথে কাজ করার পরিবেশ কৈরী করে দেন। উপজেলা বিএনপি যুবদল ছাত্রদল নেতৃবৃন্দকে নিয়ে উপজেরা বিএনপির সাবেক আহবায়ক চেরাগ আলীর বাড়িতে বসলে সেখানে লুনার উপস্থিতিতেই দু’গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। পরবর্তিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি শেষ হয়। কিন্তু বিএনপির অভ্যন্তরিন কোন্দল আ’লীগের মত প্রকাশ্য না হলেও ভিতরে ভিতরে তুষের আগুন জ্বলছে। তবে বিএনপি’র নিজস্ব ভোট, সাবেক এমপি বিএনপি’র নিখোজ নেতা এম ইলিয়াছ আলীর ইমেজ, জামায়াত ও হেফাযতের ভোট ব্যাংক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী নিরবে এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপি তথা ময়নুল হকের সমর্থকেরা দাবী করছেন সুষ্ট ভোট হলে নিরব ভোটে তারা জয়লাভ করবেন। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে প্রার্থী করেছে এক সময়ের ছাত্রসমাজ নেতা প্রবাসী শিব্বির আহমদকে। দলীয় নেতা কর্মীরা সাধ্য অনুসারে তার পক্ষে কাজ করছেন। তার সমর্থকরা দাবী করছেন, আ’লীগের দুই গ্রুপে মারা মারি চলছে, বিএনপি মাঠে নেই,তাই জনগন তাদের দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ধন্ধীতা নিয়ে চলছে মিরাক্কেল কান্ড। ৯ ফেব্রুয়ারী মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গয়াছ মিয়া, আ’লীগ থেকে দিলদার আলী ও ফেরদৌস খান।
কিন্তু আ’লীগের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর কোন বৈধ কাগজ পত্র না দিতে পারলে দিলদার আলী ও ফেরদৌস খানের মনোনয়ন বাতিল হয়। তখন প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী না থাকায় বিএনপির গয়াছ মিয়াকে নির্বাচে ন বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এদিকে ফেরদৌস খান স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবী করে হাই কোর্টে রিট করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের মাত্র ৫দিন বাকি থাকতে তাকে বৈধতা প্রদান করে রায় দেন। হাতে মাত্র ৫দিন সময় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচারনায় নামছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থী গয়াছ মিয়া ও ফেরদৌস খান। এবার দেখা যাবে এ পদের জন্য ভাগ্য কার পক্ষে রয়েছে? মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। আ’লীগ থেকে মুক্তা পারভিন ও বিএনপি থেকে মুসলিমা চৌধুরী প্রচারনা করছেন।মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়াই এ দু’জনের মধ্যেই হবে বলে মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের। এদিকে নির্বাচনী প্রচারনার শেষ দিকে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠে ওসমানীনগরের ভোটের মাঠ। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকাল ৫টায় উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়ের কালনীরচরে একটি চায়ের দোকানে জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীচরের ৬/৭জন যুবক বসা ছিল। তখন ঐ এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করতে যান উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জগলু চৌধুরী,সাদীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন আহমদসহ তার সমর্থকেরা। এসময় চায়ের দোকানে বসা যুবকদের মধ্যে কিছু একটা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যার পর দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে ঝগড়া লেগে যায়। তখন উপস্থিত মুরব্বীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে সাময়িক শেষ করে দেন এবং রোববার সকালে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধান করে দেবেন বলে দু’পক্ষকে জানিয়ে দেন। কিন্তু সালিশ বসার আগেই সকাল সাড়ে ৭টায় উভয় পক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে সাড়ে ৯টায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থী পথচারী সাইফুল ইসলাম। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দক্ষিণ কালনীরচর গ্রামের সুহেল মিয়া (৩৫) নামের আরেকজন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিনকে এক নম্বর আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পূর্বে কবির উদ্দিনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলে তার সমর্থকরা সিলেট-ঢাকা মহাসকের ৪টি স্থানে অবরোধ করে রাখে। আধ ঘন্টা পর ছেড়ে দেয়া হয় চেয়ারম্যান কবির উদ্দিনকে। এ ঘটনার পর থেকে নির্বাচনী মাঠ হটাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ৬ মার্চ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১লক্ষ ৩০ হাজার ৪শ ৬০ জন ভোটার উপজেলার প্রথম জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০ থেকে ২২ টি কেন্দ্র রয়েছে ঝুকিপূর্ন। প্রশাসনের দৃষ্টিতে এসব ঝুকিপূর্ণ সেন্টার হচ্ছে অপেক্ষাকৃত বেশি দুরত্ব ও বেশি ভোটার সংখ্যা নিয়ে। এসব ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতেষ্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

No comments:

Post a Comment