Thursday, March 2, 2017

বগুড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জেএমবি নেতা নিহত

বগুড়ায় নব্য জেএমবির সামরিক শাখার উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার আমিজুল ইসলাম ওরফে আল-আমিন ওরফে রনি (২৬) ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি,  নিহত শেরপুরের মহিপুর জুয়ানপুর কুটিরভিটা গ্রামে গ্রেনেড বিস্ফোরণ মামলার সন্দেহভাজন আসামি। বুধবার দিনগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার জামনগর এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশী পিস্তল ও দু’টি ম্যাগজিন উদ্ধার করছে পুলিশ। আমিজুল রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার বুজরুক রাজারামপুর গ্রামের দুরুল হকের ছেলে। শেরপুর থানার ওসি খান মো. এরফান জানান, বগুড়ার ডিবি পুলিশের একটি দল গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমিজুলকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার ছুরিকাঘাতে ডিবি পুলিশের কনস্টেবল আবদুস সালাম পিপিএম ও কনস্টেবল ইসমাইল হোসেন গুরুতর আহত হন।
তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে অস্ত্র উদ্ধার ও অন্য জঙ্গিদের গ্রেফতারে বগুড়ার ডিবি ও শেরপুর থানা পুলিশ জঙ্গি আমিজুলকে নিয়ে বুধবার দিন ও রাতে বগুড়া এবং রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। রাত ৩টার দিকে রাজশাহীর দিকে যাওয়ার সময় সীমাবাড়ি-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের জামনগর এলাকায় পৌঁছলে সঙ্গীরা জঙ্গি আমিজুলকে ছিনিয়ে নেবার জন্য পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। জানমাল রক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এ সময় আমিজুল পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে ৭.৬৫ ক্যালিবারের একটি বিদেশী পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগজিন পাওয়া গেছে। শেরপুর থানার ওসি আরও জানান, এ ব্যাপারে পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে পুলিশের সূত্র জানায়, আমিজুল এক সময় শিবিরের রাজনীতি করতো। এক বছর আগে জেএমবিতে যোগ দেয়। মাঝে মাঝে রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার বুজরুক রাজারামপুর গ্রামে পালক বাবা আতাউর রহমানের বাড়িতে থাকতো। সেখানে জেএমবি সদস্যের গোপন বৈঠক ও প্রশিক্ষণ নিতেন তিনি। দক্ষতার কারণে পরবর্তীতে তাকে জেএমবির সামরিক শাখার উরাঞ্চলীয় প্রধান করা হয়।

No comments:

Post a Comment