Monday, April 24, 2017

উপসচিব হলেন ২৬৭ কর্মকর্তা



বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে উপসচিব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮ জন প্রশাসন ক্যাডারের ও বাকি ৬৯ জন বিভিন্ন ক্যাডারের সদস্য। পদোন্নতিতে সিনিয়র ব্যাচের মাত্র পাঁচ জন বঞ্চিত কর্মকর্তাকে এবার বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এছাড়া উপসচিব পদে এবারই প্রথম ২২তম ব্যাচকে বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এ ব্যাচ থেকে ১৯৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে উপসচিব করা হয়েছে। ২২ ব্যাচের বাকি ৫২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে। গতকাল বিকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তাদের পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও রেওয়াজ অনুযায়ী পদোন্নতি পাওয়া উপ-সচিবদের পদোন্নতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) নিয়োগ করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের পদায়ন সংক্রান্ত আলাদা আলাদা আদেশ জারি করা হবে। পদোন্নতির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের তিন কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান (৬২৭৮), মো. শাহজাহান মিয়া (৬২৭৯), আব্দুন নাসের খান (৬৩৫৪) অনেক দিন পদোন্নতি বঞ্চিত থাকার পর পদোন্নতি পেলেন। এছাড়া ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা এসএম শাহ হাবিবুর রহমান হাকিমও (৬৮৯১) দীর্ঘদিন পর পদোন্নতি পেলেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২২তম ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারে ২৬৯ কর্মকর্তার মধ্যে ২৪৫ জন সিনিয়র সহকারী সচিব পদোন্নতি যোগ্য ছিলেন। বিভাগীয় মামলাসহ বিভিন্ন কারণে ২৪ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হননি। তবে ২২তম ব্যাচের পদোন্নতি যোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ১৯৩ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। পদোন্নতি বঞ্চিত ও সদ্য সাবেক একটি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুঠোফোনে মানবজমিনকে বেশ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, পদোন্নতি বঞ্চিত করে আমার সাংবিধানিক অধিকারটি কেড়ে নেয়া হয়েছে। পদোন্নতি না পেয়ে আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বঞ্চনা কারাভোগের চেয়েও খারাপ। তিনি বলেন, পদোন্নতি কেন দেয়া হবে না এ বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত। না হলে আমার মতো কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চিত হতেই থাকবো। এবারও নিয়ম অনুযায়ী বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ও ২৫ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৯৮ জন, অর্থাৎ ৭৪ দশমিক ১৬ শতাংশই প্রশাসন ক্যাডারের। সরকারের উপসচিব, যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা-২০০২ অনুযায়ী, উপসচিব পদের পদোন্নতিতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য ৭৫ শতাংশ এবং অন্য ২৬টি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য ২৫ শতাংশ পদ নির্দিষ্ট করা আছে। প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে এবার কৃষি ক্যাডারের পাঁচজন, আনসারের তিন জন, নিরীক্ষা ও হিসাবের চার জন, সমবায়ের পাঁচ জন, ইকোনমিক ক্যাডারের ছয় জন, মৎস্যের পাঁচ জন, খাদ্যের দুই জন, সাধারণ শিক্ষার আট জন, তথ্যের চার জন, প্রাণিসম্পদের ছয় জন, ডাকের তিন জন, গণপূর্তের চার জন, রেলওয়ের তিন জন, পরিসংখ্যানের দুই জন, করের তিন জন, সড়ক ও জনপথের দুই জন ছাড়াও টেলিযোগাযোগ, শুল্ক ও আবগারী, বন এবং ট্রেড ক্যাডারের একজন করে কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। গতকাল বিকালে পদোন্নতির আদেশ জারির পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ভিড় করেন কর্মকর্তারা। নোটিশবোর্ডে পদোন্নতির আদেশ টাঙানোর পর অনেকেই ফোনে খবর জানান অন্যদের। বরাবরের মতো এবারের পদোন্নতিতেও শীর্ষ কর্মকর্তাদের একান্ত সচিবরা (পিএস) পদোন্নতির তালিকায় স্থান পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ছাড়াও একজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী, একজন উপমন্ত্রীর পিএস এবং নয়জন সচিবের পিএসকে উপসচিব করা হয়েছে। পদোন্নতির তালিকায় দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস কাজী নিশাত রসুল, কৃষিমন্ত্রীর পিএস মোহাম্মদ শাহজালাল, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর পিএস মো. মঞ্জুরুল হাফিজ এবং পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রীর পিএস শাহ মোমিন পদোন্নতি পেয়ে উপসচিব হয়েছেন। এছাড়া পিএসসি চেয়ারম্যানের পিএস মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, দুদক কমিশনারের পিএস  সৈয়দ রবিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং একটি সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানের পিএস উত্তম কুমার মণ্ডলকে উপসচিব করেছে সরকার। এছাড়া সেতু বিভাগের সচিবের পিএস মাহমুদ ইবনে কাসেম, শ্রম সচিবের পিএস হাবিবুর রহমান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিবের পিএস আবু  সেলিম মাহমুদ- উল হাসান এবং দুদক সচিবের পিএস মো. নূরুল হক পদোন্নতি পেয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের পিএস কাজী শাহজাহান, কৃষি সচিবের পিএস মো. জিয়াউল হক, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পিএস এইচ এম নুরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের পিএস মো. শরিফুল ইসলাম, পরিবেশ ও বন সচিবের পিএস মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়াকেও উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এর আগে গেল বছরের ২৭শে নভেম্বর প্রশাসনের তিন স্তরে উপসচিব, যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে ৫৩৬ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। ওই সময় ২০৫ জন সিনিয়র সহকারী সচিব পদোন্নতি পেয়ে উপসচিব হন। উপসচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা সাড়ে আটশ’র বিপরীতে নতুন করে ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি  দেয়ায় বর্তমানে উপসচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৫১ জন। এছাড়া একই সময়ে যুগ্মসচিব পদে ১৯৫ জন এবং অতিরিক্ত সচিব পদে ১৪৮ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। অভিযোগ আছে, পদোন্নতি দিতে গিয়ে এর দ্বিগুণের বেশি কর্মকর্তাকে ওই সময় পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়।

No comments:

Post a Comment