Saturday, June 3, 2017

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধ বাড়ালো জাতিসংঘ

ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধের সীমা বর্ধিত করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। অবরোধের এ সীমার মধ্যে থাকবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, চারটি খাত ও ১৪ জন সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। এর আওতায় রয়েছেন বিদেশী গুপ্তচর বিষয়ক অপারেশনের প্রধান চো ইল-উ।  এর আওতায় কালো তালিকাভুক্ত যেসব সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন তার মধ্যে দেশটির ওয়ার্কার্স পার্টির সিনিয়র সদস্য, পিয়ং ইয়ংয়ের সামরিক কর্মসূচির অর্থ বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অন্যতম। এ ছাড়া রয়েছে উত্তর কোরিয়ার রকেট ফোর্স, দ্য কোরিয়ো ব্যাংক, দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কিম জং উন সহ উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের অর্থনৈতিক বিষয়ে ব্যবস্থাপনা দেখাশোনা করে পার্টির যে অফিস তার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কোরিয়ো ব্যাংক। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে সমঝোতার পর সর্বসম্মত ভোটে এ অবরোধ পাস করে নিরাপত্তা পরিষদ। উল্লেখ্য, এর আগে সব পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল জাতিসংঘ। কিন্তু তা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। তারই ফলে শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সবাই ওই অবরোধ বর্ধিতকরণের বিষয়ে একমত হয়। উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালে সেখানে সামরিক আগ্রাসনের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সতর্কতাকে কেন্দ্র করে কোরিয়ো উপদ্বীপ অঞ্চলে মোতায়েন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ। সেখানে যুদ্ধের এক দামামা বেজে ওঠে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। তাদের দাবি, প্রতিরক্ষার জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি। কিন্তু বিষেশজ্ঞদের আশঙ্কা, এমন পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে উত্তর কোরিয়া। তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আঘাত করতে সক্ষম। তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খা পূরণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্য্য শেষ হয়ে গেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র কোরিয় উপদ্বীপ অঞ্চলে তার যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম এমন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের সঙ্গে তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকে, যাতে উত্তর কোরিয়ার ওপর চীন চাপ প্রয়োগ করে। উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রথম অবরোধ আরোপ করে ২০০৬ সালে। তারপর থেকে পরিষদ তার এই অবরোধ আরো শক্তিশালী করেছে।

No comments:

Post a Comment