Sunday, December 17, 2017

ছাড় দিতে নারাজ আ’লীগ : অনড় জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি

রানীশংকৈল এবং পীরগঞ্জ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ রাজত্ব করলেও ২০০১ সালে এটি হাতছাড়া হয়ে যায়। পরের দু’দফায়ও এ আসন থেকে এমপি পায়নি আওয়ামী লীগ। জোটের প্রার্থী হিসেবে সবশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি নির্বাচিত হন ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি অধ্যাপক ইয়াসিন আলী। তিনি আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি অন্য কোনো দলকে ছাড় দিতে রাজি নয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সবাই অভিন্ন সুরে এ কথা বলছেন। এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে গণসংযোগ করছেন। বসে নেই বিএনপিও।
প্রায় ৪ বছর ধরে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টির একাধিক প্রার্থী। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এ আসনে প্রয়াত আলী আকবর আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৮ সালেও আসনটি আওয়ামী লীগের কব্জায় ছিল। তবে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ১৫ দলীয় জোট প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির শহীদুল্লাহ হক ‘হাতুড়ি’ প্রতীক নিয়ে এমপি হন। ১৯৯০-এ পট পরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের ভোটে মোখলেছুর রহমানের হাত ধরে আসনটি পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক। ২০০১ সালে আসনটি আ’লীগের হাতছাড়া হয় এবং বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ২০০৮ সালেও আসনটি দখলে রাখেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজ উদ্দিন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হন ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি অধ্যাপক ইয়াসিন আলী। ‘হাতুড়ি’ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি হন তিনি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি আর কোনো দলকে ছাড় দিতে নারাজ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পীরগঞ্জের কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ কর্মী আজহারুল ইসলাম রাজা বলেন, আসনটি এবার অন্য কোনো দলকে ছাড়া হবে না। জোটগত নির্বাচন না হলে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে। আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয় দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হকের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আগামী নির্বাচনে আসনটি কাউকে ছাড়া ঠিক হবে না। অতীতে জোটের রাজনীতির কারণে আসনটি ছাড় দেয়া হয়েছিল। তবে ওই সিদ্ধান্ত ছিল ভুল। এর খেসারত দিতে হচ্ছে দলকে আজও। দলের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। পূর্বে দুটি নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টি ও এরশাদের জাতীয় পার্টিকে কৌশলগত কারণে ছাড় দিয়ে এ ভুলের স্বীকার হয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু আর নয়। এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলীয় প্রতীকে ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের দাবিও তাই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সেলিনা জাহান লিটা, রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সহিদুল হক, তাঁতী লীগের জেলা সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি। রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সহিদুল হক আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ ব্যক্ত করে যুগান্তরকে বলেন, ‘অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগ আসনটি হারাবে।’ আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সেলিনা জাহান লিটাও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না। ইমদাদুল হক থেকে শুরু করে সহিদুল হক সবাই আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও ভাই। সবাই আমাকে স্নেহ করেন ...।’ মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দলের নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, নেতাদের মধ্যে কেউ কাউকে সহ্য করতে না পারলে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়াই স্বাভাবিক। প্রবীণ আওয়ামী লীগার আমজাদ বলেন, ভোটের জেতার বিষয়টি দলের পাশাপাশি প্রার্থীর ইমেজের ওপরও নির্ভরশীল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম ও সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়ার পাশাপাশি তিনি গণসংযোগ করছেন। আগামী নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এবার তিনি প্রার্থী না হলে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যাবে। এটি সহজেই বিএনপি-জামায়াতের কব্জায় চলে যাবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের এ সত্য বুঝতে হবে। বর্তমান এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি অধ্যাপক ইয়াসিন আলীও জোরকদমে এগিয়ে চলছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মানুষের কাছে ছুটছেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে তার ছবি সংবলিত পোস্টার-ব্যানার শোভা পাচ্ছে। তিনি ছাড়াও রানীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য তাজুল ইসলামও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। সমাজতন্ত্রের পতাকা তুলে ধরে রাখতে তিনি এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। ২০ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলামও বসে নেই। তিনি ভোটারদের মাঝে নিজেকে নানাভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। এছাড়া ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্র নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদও বিএনপির টিকিটে নির্র্বাচন করতে প্রস্তুত।

No comments:

Post a Comment