Thursday, February 22, 2018

স্ত্রীকে হত্যা করে বিদেশে পালিয়েছে সাদ্দাম

কুমিল্লায় বন্ধুর সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ সড়কের পাশে ফেলে রেখে বিদেশে পালিয়েছে ঘাতক সাদ্দাম হোসেন। গ্রেফতার সোহেল আদালতে এ কথা স্বীকার করেছে। সাদ্দামের বন্ধু সোহেলকে ১৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে সে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ মনিরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অভিযোগে জানা যায়, ৩ বছর আগে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হিয়াজোড়া গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে রং নম্বরের সূত্র ধরে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার কুন্দাপাড়া গ্রামের হারুনুর রশিদের মেয়ে হালিমা আক্তারের। জানাজানি হলে হালিমার পরিবার তড়িঘড়ি করে মাসুদ নামে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেয়। এ কারণে সাদ্দাম হালিমার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেয়। বিয়ের কিছুদিন পর হালিমা বাবার বাড়িতে বেড়াতে এলে খবর পেয়ে সাদ্দাম হালিমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর সাঘাটা গিয়ে সাদ্দাম গোপনে বাড়ি থেকে হালিমাকে বের করে এনে চট্টগ্রামে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় ওঠে। এরপর প্রথম স্বামী মাসুদকে ডিভোর্স করিয়ে হালিমাকে বিয়ে করে সে। এর কিছুদিন পর সাদ্দাম ওমান চলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর সাদ্দাম হালিমাকে খরচের টাকা না পাঠালে উপায় না দেখে হালিমা চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরে এসে একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ নেন। এরপর থেকেই সাদ্দামের সন্দেহ হয় যে, হালিমা পরকীয়ায় জড়িয়ে গেছে। সাদ্দাম হঠাৎ ২৬ জানুয়ারি ওমান থেকে দেশে ফিরে আসে। ৩১ জানুয়ারি সে গাজীপুরে হালিমার বাসায় যায়।
ওই দিনই রাতে সে হালিমাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়। গভীর রাতে সাদ্দাম স্ত্রীকে বাড়িতে না নিয়ে তারই বন্ধু একই গ্রামের সোহেলের সহযোগিতায় হালিমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার দত্তপুর ব্রিজের পাশে লাশ ফেলে দেয়। পরদিন সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। এদিকে মিশন সফল করে ৬ ফেব্রুয়ারি সাদ্দাম ওমান পালিয়ে যায় এবং সোহেলকে এ বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখতে অনুরোধ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হালিমার লাশের ছবি ভাইরাল হলে হালিমার বাবা হারুনুর রশিদ তার মেয়ে বলে শনাক্ত করেন। এরপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ১৯ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সে পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এ বিষয়ে বুধবার সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম পিপিএম জানান, প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। জড়িত সোহেলকে গ্রেফতারের পর সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মূল ঘাতক সাদ্দাম হোসেন বিদেশে পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

No comments:

Post a Comment