
পাবনার
চাটমোহরের জোড়ামাথার শিশু রাবেয়া ও রুকাইয়ার অস্ত্রোপচারের প্রাথমিক ধাপ
সম্পন্ন হয়েছে। শিশু দুটির মাথায় রক্তনালী কী অবস্থায় রয়েছে তা জানার জন্য
কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাঙ্গেরি থেকে আসা দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের
তত্বাবধানে শিশু দু’টির মাথায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল
কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক অ্যান্ড বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল
সেন জানিয়েছেন, শিশু দুটির মাথায় অস্ত্রোপচারের প্রাথমিক ধাপ সফল হয়েছে।
মূলত: অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। আজ বুধবার আরো কয়েকটি
পরীক্ষা করা হবে। এ পরীক্ষাটির পর বলা যাবে শিশু দুটির জন্য চিকিৎসকেরা কী
করতে পারবেন। এর আগে এ বিষয়ে পৃথক করার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা
যাবে না। ডা. সেন বলেন, মূলত শিশু দুটির মাথার দিকে রক্ত সঞ্চালনের
প্রক্রিয়াটি জানতে চেষ্টা করা হয়েছে। পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে
অস্ত্রোপচার করে মাথা আলাদা করা সম্ভব কি-না অথবা কিভাবে আলাদা করা যাবে?
চিকিৎসকেরা জানান, এটা একটি জটিল প্রক্রিয়া। জোড়া মাথা পৃথক করার
প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বছর খানেক লেগে যেতে পারে। অস্ত্রোপচারের জন্য
ইতোমধ্যে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা
মেডিক্যাল কলেজে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান,
মাথা জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেয়া এমন শিশুদের অস্ত্রোপচারের সফলতার হার
বিশ্বে খুব বেশি নয়। বিশ্বে এ পর্যন্ত এ ধরনের ২০ শতাংশের কম অস্ত্রোপচার
সফল হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের ইতিহাস নেই। এটা হবে সবচেয়ে
জটিল ও ঝুঁকিপুর্ণ অস্ত্রোপচার। ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, অস্ত্রোপচার সফল
হলে এটা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের জন্য বিরল সম্মান বয়ে আনবে। রাবেয়া ও
রুকাইয়া ২০১৬ সালের জুলাই মাসে পাবনা শহরের একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে
জন্ম নেয়। গর্ভাবস্থায়ই শিশু দুটির মাথা জোড়া লাগানো ছিল। চাটমোহর উপজেলার
মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলঙ্কা গ্রামের স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা
দম্পতির সন্তান রাবেয়া ও রুকাইয়া।
No comments:
Post a Comment