ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজঃ
ঢাক ঢোল বাজিয়ে আবার এলো শারদীয় দূর্গাপূজা। সাজ সাজ রব সর্বত্র। হরদমে চলছে পূজার প্রস্তুতির সকল কার্যক্রম। গ্রাম গঞ্জে শহর বন্দরে মন্ডপগুলো সাজবে বর্ণিল সাজে। ১৫ই অক্টোবর ষষ্ঠী দিয়ে পূজা শুরু হবে, ১৯ই অক্টোবর বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে এই উৎসব। ইতিমধ্যে সকল পাড়া মহল্লা পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি গঠনের কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। আনন্দঘন আয়োজনে শুরু হবে শারদীয় দূর্গাপূজা। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা। ধর্মের দিক থেকে এটি দেবী দুর্গার বার্ষিক শারদীয় পূজা। এ পূজা মূলত ধর্মীয় হলেও তা পরিণত হয়েছে বাঙালি হিন্দুর বার্ষিক সামাজিক আনন্দ-উৎসবে। দূর্গাপূজা পরিণত হয়েছে দূর্গোৎসবের সামাজিক মহোৎসবে। প্রতি বছর দূর্গোৎসব হয় শরৎকালে। দূর্গোৎসবের মূল বাণী মঙ্গল প্রতিষ্ঠার, অমঙ্গল নাশের। যে দূর্গার পূজা হয় তিনি অসুরবিনাশিনী, শক্তিদায়িনী, ভাগ্য-কৃষ্টি প্রদায়িনী। মানুষের মনের কালিমা ঘুচিয়ে তিনি আসেন আলোর নিশানা দেখাতে।
এ উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় আশ্বিন মাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে - দেবীর বোধনের মাধ্যমে। তারপর পূজা চলে নবমী পযন্ত। আশ্বিনে দূর্গোৎসব শুরু হলেও এর প্রস্তুতি শুরু হয় অন্তত মাসখানেক আগে থেকে। পাড়ায় পাড়ায় সর্বজনীন দূর্গাপূজার উদ্যোগ-আয়োজন চলতে থাকে। সেইসঙ্গে ঘরবাড়ি মেরামত করে সুন্দর করা, নতুন জামাকাপড় ও আসবাবপত্র কেনাকাটার কাজ শুরু হয় পূজার আগেই। দোকানের দোকানে সাজানো হয় নতুন নতুন ফ্যাশনের জামাকাপড় ও নানারকম পণ্যে।
এদিকে প্রতিবেদন নিতে গিয়ে দেখা যায় চট্টগ্রামে মেরুমুখী কাজীর দেউরি শ্রী শ্রী গোপাল সেবাশ্রমের বেহাল অবস্থা, নালার উপর দিয়ে গড়ে তুলছে ব্যয় বহুল মন্ডপ, (স্টেজ) উল্লেখ্য শ্রী শ্রী গোপাল সেবাশ্রমটি সেই স্বাধীনতার পর থেকে একই নালার উপর নির্মিত মন্ডপটিতে পূজা উদযাপিত হয়ে আসছে, যা প্রতি পূজার সময় দলীয় নেতারা পরিদর্শন শেষে নালার উপর স্ল্যাভ দিয়ে একটি মন্দির নির্মান করে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন, কিন্তু আশ্বাস দেওয়ার পরও কোন ফলাফল বা কার্যকারিতা মেলেনি, ফলে প্রতি বছর উক্ত ব্যয় বহুল মন্ডপটির মোটা অংকের অর্থগুলো গুনতে হয় মহল্লার সকল হিন্দু সম্প্রদায় গরিব দুঃখী মানুষকে, শ্রী শ্রী গোপাল সেবাশ্রম কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী প্রিয়তোষ নন্দী জানান,
এই মন্ডপটিতে প্রতি পূজায় প্রায় দেড়শ থেকে দু'শ পরিবার পূজা উৎসব উদযাপন করে থাকেন, যেখানে স্থানীয় সংসদ ও প্রশাসনের অসুদৃষ্টির কারনে পরিত্যক্ত নালার উপর মন্ডপ নির্মান করে পূজা উদযাপন করতে হয় দেড় শতাধিক পরিবারকে, তিনি আরো বলেন প্রতিবছর দূর্গাপূজা ও জম্মাষ্টমী এই দুইটি উৎসবে পরিত্যক্ত নালার উপর নির্মিত ব্যয়বহুল মন্ডপটিতে খরচ করতে হয় ৬ লক্ষ টাকার ও বেশি অর্থ, যা সম্পূর্ন সম্প্রদায়ভুক্ত গরিব দুঃখী পরিবাগুলো তাদের কেনাকাটাকে সংকিপ্ত করে তাদের বহন করতে হয়, তাই তিনি স্থানীয় প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সংসদ কে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করেন যাতে নালাটির উপর একটি স্ল্যাভ ও একটু মন্দির নির্মান করে দেওয়া হয়।
সাংগঠিত কমিটির আইন শৃঙ্খলা বিষক সম্পাদক লিটন দাশ জানান এই পরিত্যক্ত নালাটির উপর যদি একটি মন্দির নির্মান হয় তাহলে মহল্লার যে সকল সম্প্রদায়ভুক্ত গরিব দুঃখী পরিবারের ছেলে মেয়ে অর্থনৈতিক সংকটের কারনে গীতাপাঠ/লেখাপড়া করতে পারছেনা তাদের জন্য সম্পূর্ণ সাংগঠনিক অর্থায়নে শিক্ষক নিয়োগ করে সকল গরিব দুঃখী পরিবারের ছেলে মেয়ের জন্য গীতাপাঠ/বিদ্যালাভ করার সুযোগ করে দেওয়া হবে, তাই তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ আবেদন জানান। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সেবাশ্রম কমিটির সাধারন সম্পাদক খোকন দাশ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত দাশ, অর্থ সম্পাদক মিটুন দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ভোমর দাশ, ও সহ-সভাপতি দোলন দাশ সহ আরো অনেকে। উপস্থিত সম্প্রদায় পুরোহিত/ব্রাহ্মণ
অপু চক্রবতী বিপদনাশিনী মন্দিরের বিষয়টি ব্যক্ত করে বলেন, যখন আমরা গ্রীষ্মকালে অত্র অসম্পন্ন মন্দিরে পূজা অর্চনা করি তখন বৃষ্টি আসলে আমাদের পূজা অর্চনা চলাকালীন মন্দিরে বৃষ্টির পানি পড়াতে ঠিকমত পূজা অর্চনা শেষ করতে পারি না ফলে আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় এই অসম্পন্ন মন্দিরটিতে, তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ব্যয়বহুল মন্ডপ স্থাপিত পরিত্যক্ত নালার উপর স্ল্যাভ করে একটি মন্দির নির্মান করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

No comments:
Post a Comment